নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে এবং আগামী কয়েক বছর ধরে দেশটি ও এর তেল মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ট্রাম্প বলেন, কারাকাস ওয়াশিংটনকে "আমাদের যা কিছু প্রয়োজন মনে হয়, তার সবকিছুই" দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনৈতিক অধিপতি হিসেবে থাকবে।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, "আমরা এটিকে খুব লাভজনক উপায়ে পুনর্গঠন করব" এবং জোর দিয়ে বলেন, "আমরা তেল ব্যবহার করব এবং আমরা তেল নেব।" ভেনেজুয়েলার উপর হোয়াইট হাউসের সরাসরি তত্ত্বাবধানের সময়কাল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প উত্তর দেন, "আমি বলব এক বছরের চেয়ে অনেক বেশি সময়।"
এই মন্তব্যগুলো অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভেনেজুয়েলার তেল বাজার উন্মুক্ত করার পরিকল্পনার পক্ষে দেওয়া যুক্তির পরেই এসেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বভৌম দেশগুলোতে বহিরাগতদের ভূমিকা নিয়ে জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে "নিয়ন্ত্রণ" ধারণাটি বহুমাত্রিক। এটি রাজনৈতিক প্রভাব, তেল রাজস্ব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রভাব অথবা ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে সরাসরি operational অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করতে পারে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে, বিশেষ করে সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যগুলোতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যোগ করে।
ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে, কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর তেল উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো মাদুরো সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু এটি দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকার তাৎপর্য অনেক। এটি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াতে পারে, সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে নতুন আকার দিতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী তেলের দাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকেও প্রভাবিত করতে পারে। তবে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ সম্ভবত ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিনেতাদের কাছ থেকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হবে, যারা এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলার বর্তমান সম্পর্ক এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। ট্রাম্প সম্পূর্ণ সহযোগিতার দাবি করলেও, মাঠের বাস্তবতা সম্ভবত আরও জটিল। ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর সম্পর্ক বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করবে, যার মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ঘটনা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং বিশ্ব তেল বাজারের পরিবর্তনশীল গতিশীলতা। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার দলগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা ও কৌশল অবলম্বন, সেইসাথে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সম্পৃক্ততা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment